Back to Dashboard
16 Sources
#trending
#india
Honeymoon Murder: হানিমুনে গিয়ে হাঁটতে বেরিয়েছিলেন যুবক, নিমেষে পিষে দিল গাড়ি, স্বামীকে খুনের ছক কষেছিলেন স্ত্রী !
Honeymoon Murder: সোনম রঘুবংশী এবং রাজা রঘুবংশীর নাম এখনও আমজনতা ভোলেনি। এর মাঝেই প্রকাশ্যে এল শিউরে ওঠার মতো আরেকটি ঘটনা। হানিমুনে গিয়ে হাঁটতে বেরিয়েছিলেন দম্পতি। সেখানেই সদ্য বিবাহিত আশিসকে পিষে দেয় দ্রুত গতিতে ধেয়ে আসা একটি গাড়ি। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় যুবকের। তাঁর স্ত্রী অঞ্জুর যাবতীয় সোনার গয়না ছিনিয়ে চম্পট দেয় আততায়ীরা। রাস্তাতেই অচৈতন্য অবস্থায় পড়েছিলেন তরুণী। এই ঘটনায় তদন্তে নামে পুলিশ। আপাত দৃষ্টিতে দেখে যে ঘটনাকে 'হিট অ্যান্ড রান' কেস বলে মনে হয়েছিল, তা ঘুরে যায় ১৮০ ডিগ্রি। মেঘালয়ের হানিমুন মার্ডার কেসের সঙ্গে আগেই পরিচিত হয়েছে পুলিশ মহল। তাই সেই ঘটনা এখানেও মাথায় ছিল তদন্তকারীদের। আর অদ্ভুত ভাবে এখানেও ঘটেছে একই ঘটনা। হানিমুনে গিয়েছিলেন রাজস্থানের দম্পতি আশিস এবং অঞ্জু। বিয়ের পর বেড়াতে গিয়ে আশিসের এ হেন মর্মান্তিক মৃত্যুর পিছনে হাত রয়েছে তাঁর স্ত্রী অঞ্জুরই, প্রাথমিক তদন্তের পর এমনটাই জানিয়েছেন পুলিশের তদন্তকারী আধিকারিকরা। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সোনম রঘুবংশী যেভাবে নিজের প্রেমিকের সাহায্যে রাজা রঘুবংশীকে খুন করিয়েছিলেন, এখানেও ঘটেছে ঠিক সেটাই। অঞ্জুই নিজের প্রেমিক সঞ্জুর সঙ্গে মিলে খুন করিয়েছেন আশিসকে, অনুমান পুলিশের। অঞ্জুর এই পরিকল্পনায় সঞ্জু ছাড়াও আরও ২ জন যুক্ত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে পুলিশ সূত্রে। গোটা ঘটনাটি 'দুর্ঘটনা' বলেই চালাতে চেয়েছিলেন অঞ্জু, তাঁর প্রেমিক সঞ্জু এবং বাকি ২ জন। মেঘালয়ে হানিমুন মার্ডারের মতো নতুন এই সাংঘাতিক ঘটনা এখন লোকমুখে ঘুরছে রাজস্থান হানিমুন মার্ডার হিসেবে। পুলিশ সূত্রে খবর, মাস তিনেক আগে বিয়ে হয়েছিল আশিস এবং অঞ্জুর। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই অসুখী ছিলেন অঞ্জু। ফিরে গিয়েছিলেন বাপের বাড়িতেও। সেখানেই প্রাক্তন প্রেমিক সঞ্জুর সঙ্গে নতুন করে যোগাযোগ হয় অঞ্জুর। এরপর ২ জন মিলে আশিসকে খুনের পরিকল্পনা করেন। গত ৩০ জানুয়ারি ঘটেছে এই ভয়ঙ্কর ঘটনা। সুনসান রাস্তায় হাঁটতে বেরিয়েছিলেন অঞ্জু এবং আশিস। আচমকাই তাঁদের আক্রমণ করে তিনজন। সঞ্জু, রকি এবং বাদল- এই তিনজন আক্রমণ করেছিলেন বলে খবর পুলিশ সূত্রে। এদের মধ্যে রকি পরিচিত রোহিত নামেও। আর বাদলের অন্য নাম সিদ্ধার্থ। রাস্তার পাশে ঝোপে তারা লুকিয়েছিল বলে খবর পুলিশ সূত্রে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, রাতের খাবার খাওয়ার পর হাঁটতে বেরিয়েছিলেন অঞ্জু এবং আশিস। পুলিশ সূত্রে খবর, ওই তিন আততায়ী নৃশংস ভাবে আক্রমণ করে আশিসকে। শ্বাসরোধ করে খুন করা হয় তাঁকে। তারপর এমন ভাবে সবটা সাজানো হয়, যাতে দেখে প্রথমে সকলেরই মনে হবে সে পথ দুর্ঘটনা ঘটেছে। অঞ্জু নিজের ফোন এবং কানের দুল দিয়ে দেয় আক্রমণকারীদের, যাতে পরে বোঝাতে পারেন যে তাঁর গয়না, মোবাইল ছিনতাই হয়েছে। এরপর অজ্ঞান হওয়ার ভান করে রাস্তায় পড়েছিলেন অঞ্জু। পুলিশ খবর পায়, এক দম্পতি অচৈতন্য অবস্থায় রাস্তায় পড়ে রয়েছে। দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় পুলিশের টিম। আশিসের শরীরের ক্ষতচিহ্ন দেখে সন্দেহ হয় পুলিশের। তদন্ত শুরু করে তারা। এরপরই সামনে আসে আসল ঘটনা। পুলিশ এও জানিয়েছে, বারংবার নিজের বয়ান বদলাচ্ছিলেন অঞ্জু। আর তা থেকেই পুলিশের সন্দেহ আরও বাড়ে। চার অভিযুক্তকেই ইতিমধ্যে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, গত ৩০ জানুয়ারি রাত ৯টা নাগাদ তারা দুর্ঘটনার খবর পান। আশিসকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল খুঁটিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা। আসেন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরাও। অবাক হওয়ার ব্যাপার ছিল আশিসের শরীরে অনেক আঘাতের চিহ্ন থাকলেও, অঞ্জুর শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন ছিল না। এটা দেখেই সন্দেহ জাগে পুলিশের মনে। এরপর আশিসের ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা যায় শ্বাসরোধের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, অঞ্জুর ফোন থেকে জানা যায়, সঞ্জুর সঙ্গে ইদানীং নিয়মিত যোগাযোগ ছিল তাঁর। প্রথম থেকেই অঞ্জুর উপর সন্দেহ ছিল পুলিশের। যদিও অঞ্জু পুলিশকে জানিয়েছিলেন, একটি গাড়ি তাঁদের ধাক্কা মেরেছিল এবং তাঁর থেকে গয়না, ফোন ছিনিয়ে পালায় আততায়ীরা।
Sources: ABP Ananda - India, Hindu, NDTV +13 more
AI Content Studio
Powered by Gemini
New Project